নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে খালপাড় থেকে রতন নামের এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে রূপগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন ইসমাইল প্রধান (২৪) ও ওসমান গনি (২৩)। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ জুন, ২০২৫ (রোববার) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার ভারগাঁও এলাকার ওলামা নগর খালপাড়ের বেরিবাঁধ থেকে রতন (৩৮) নামের ওই যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। নিহত রতন কাঁচপুর এলাকার মো. মালেক মোল্লার ছেলে এবং তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সোনারগাঁয়ের নাওড়া বিটা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি স্থানীয় ও গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে র্যাব-১১ ছায়াতদন্ত শুরু করে। নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১১ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার দিঘি বরাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ইসমাইল প্রধান এবং তার সহযোগী ওসমান গনিকে আটক করা হয়। র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটককৃত দুইজনকে সোনারগাঁ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামি আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।