মাদক, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, যানজট ও পরিবেশ দূষণসহ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রতিটি উপজেলায় সপ্তাহে অন্তত দুই দিন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম।

সভায় গত মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং অগ্রগতি ও চলমান কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে মাদক, ছিনতাই, চোরাচালান, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা, তীব্র যানজট, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, বাল্যবিবাহ, পরিবেশ দূষণ, বিদেশি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ এবং তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সভায় সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, “ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, আর্মি মার্কেট ব্যবস্থাপনা, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড ও অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা শৃঙ্খলায় আনতে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার ওপর জোর দেন এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “মহাসড়কের যেখানে-সেখানে বিপজ্জনকভাবে রাস্তা পারাপার কঠোরভাবে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং স্টেশনগুলোকে তদারকির আওতায় আনতে বিদ্যুৎ বিভাগকে এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ দ্রুত বিচ্ছিন্ন করতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” এছাড়া অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এর স্থায়ী সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি।” তিনি আরও জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাড়িভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেই দ্রুত মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের আগ্রাসন রুখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে প্রশাসনের ওপর আস্থা তৈরির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিপিএম) ইসরাত জাহান, সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈনউদ্দীন এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব নুরে আলম।

এ ছাড়া সভায় বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, সার্কেল অফিসারগণ এবং র্যাব-১১, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।