দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচজন বাসিন্দার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রামে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এ সময় তিনি শোকার্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
ইউএনও জানান, এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা দক্ষিণ আফ্রিকাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মর্মান্তিক এ অগ্নিকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের চারজন এবং বক্তাবলী ইউনিয়নের একজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
গণমাধ্যমকে এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের প্রবাসী কল্যাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্যগুলো সংরক্ষণ করেছি। দূতাবাস থেকে আনুষ্ঠানিক তালিকা পাওয়া মাত্রই আমরা সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করব।”
তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির বিষয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। পরিবারগুলো যাতে মরদেহ আনা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতায় না পড়ে, সে জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শ্বাসকষ্ট ও দগ্ধ হয়ে ছয়জন প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় ওই এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আলীরটেক ও বক্তাবলীর আকাশ-বাতাস।