নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ডিশ ব্যবসায়ী নাসির হত্যা মামলার প্রধান আসামি শরিফকে আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে আসামি শরিফকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তাকে আদালত কক্ষে নেওয়ার সময় সেখানে ওত পেতে থাকা বিক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনরা “খুনির ফাঁসি চাই” স্লোগান দিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে আসামিকে রক্ষা করে আদালত কক্ষে নিয়ে যায়। শুনানি শেষে বিচারক শরিফের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত থেকে আসামিকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও বাইরে অপেক্ষমাণ জনতা পুনরায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামি শরিফ গত ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আজ রিমান্ড শুনানির জন্য তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করায় এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ফতুল্লার চানমারী মাউরাপট্টি এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নৃশংসভাবে খুন হন ডিশ ব্যবসায়ী নাসির। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আসামি শরিফ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ধারালো ছুরি দিয়ে নাসিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছোরা উদ্ধার করে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা শরিফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।
পুলিশ জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কেউ জড়িত আছে কিনা বা কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কিনা, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।