নারায়ণগঞ্জ নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের ফুটপাত হকারমুক্ত করা এবং অসহনীয় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
শুক্রবার (১০ই এপ্রিল) বিকেল ৩টায় নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনবহুল ব্যবসায়িক নগরী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখানে জীবিকা নির্বাহ করতে আসেন। তবে ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নগরীর ফুটপাত দখল করে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার হকার দোকান নিয়ে বসছে। এতে সাধারণ মানুষ ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় চলতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।”
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, শহরের ভেতর অতিরিক্ত অবৈধ অটোরিক্সা চলাচলের কারণে যানজট এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। শহরকে বাসযোগ্য করতে হলে আগে হকার উচ্ছেদ করতে হবে, পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসনের কথা ভাবা যেতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার ও যানজট সমস্যা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। নগরবাসীকে এই চরম ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে আমরা সকল রাজনৈতিক দলের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি। শহরকে ফুটপাতমুক্ত ও যানজটমুক্ত করার বিষয়ে অনেক গঠনমূলক প্রস্তাব এসেছে।”
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে প্রথমে নগর থেকে হকার উচ্ছেদ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। একইসাথে যানজট নিরসনে আমরা খুব দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছি।”
উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা, ফতেহ মোঃ রেজা রিপন, মনির হোসেন, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবীর, ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বী, ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, কমরেড মন্টু ঘোষ, আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।