জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিএনপির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক ও বর্তমান এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিএনপি পূর্বের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের পথে নিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিরব রায়হান এসব কথা বলেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, “সালাউদ্দিন সাহেবরা হয়তো হাসিনার সবক নিয়েই দেশ পরিচালনায় নেমেছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা যে নাটকীয় ও জঘন্যতম রূপ প্রদর্শন করছেন, তা দেশের জনগণকে আবারও দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা মাত্র।”
নিরব রায়হান অভিযোগ করেন, বিএনপি পুলিশ কমিশন থেকে শুরু করে গুম-খুন সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন পর্যন্ত সবকিছুকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এর মাধ্যমে দেশে পুনরায় গুম-খুনের রাজত্ব কায়েমের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীরাও গুম-খুনের শিকার হয়েছিলেন, অথচ এখন তারা সেই নিষ্ঠুর বাস্তবতা উপেক্ষা করে একই পথে হাঁটছে।”
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, দুদকের (দুদক) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও সচিবালয়ের প্রতিও বিএনপির অনীহা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে নিরব রায়হান আরও দাবি করেন, বিএনপি জনগণের রায়ের প্রতিফলন হিসেবে ঘোষিত ‘গণভোট’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে অনাগ্রহী এবং বিদ্যমান অধ্যাদেশ বাতিলের চেষ্টায় লিপ্ত। গণভোটের বৈধতা নিয়ে বিএনপির প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি গণভোট অবৈধ হয়, তবে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?”
পরিশেষে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে জনগণের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় দেশ আবারও পুরনো রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।