নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ঐতিহাসিক লাঙ্গলবন্দে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী পুণ্যস্নানোৎসব উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব-১১। বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই স্নানোৎসবে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ও ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য এই স্নানোৎসবে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লাঙ্গলবন্দের নির্ধারিত ২০টি ঘাটে এই পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিপুল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে র্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, উৎসব এলাকাকে নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে র্যাব-১১। পুণ্যার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র এবং স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। অত্র এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৪ ঘণ্টা নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে র্যাবের একাধিক টিম।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কেবল পোশাকি টহলই নয়, উৎসবস্থলে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে র্যাব-১১ এর গোয়েন্দা সদস্যরা সাদা পোশাকে নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। ভিড়ের মধ্যে পকেটমার, ছিনতাইকারী বা কোনো কুচক্রী মহল যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
র্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পুণ্যার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য র্যাব সদাপ্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা তথ্য প্রদানে পুণ্যার্থীদের র্যাবের সহায়তা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিশ্ছিদ্র এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে লাঙ্গলবন্দের এই ঐতিহ্যবাহী স্নানোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুণ্যার্থীরা।