ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে এবার সংরক্ষিত নারী আসনে শক্ত প্রার্থী মনোনীত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ের নারী নেত্রীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে অনেকেই দলীয় হাইকমান্ডে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে এই মনোনয়ন দৌড়ে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সুধীমহলে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথী।
নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা সংরক্ষিত নারী আসনে এমন একজন সংসদ সদস্য প্রত্যাশা করছেন, যিনি হবেন যোগ্য, সাহসী এবং প্রজ্ঞাবান। দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা এবং পেশাগত জীবনে সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করায় অ্যাডভোকেট বিথী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম বলে মনে করছেন অনেকেই।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথী তার দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি ২০০৮ সাল থেকে আইন পেশায় যুক্ত আছি। আদালতের প্রতিটি আইনি লড়াই আমাকে প্রতিনিয়ত শিখিয়েছে—অন্যায়ের সামনে কোনোভাবেই মাথা নত করা যায় না। একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য নির্যাতিত নারী ও শিশুর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ আমার হয়েছে। বিচারপ্রার্থী ওইসব মানুষের চোখের অশ্রু আমাকে আরও শক্ত করেছে, সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করেছে।”
নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এই নেত্রী আরও বলেন, “আমার রাজনৈতিক যাত্রায় প্রতিটি পদই ছিল এক একটি বড় দায়িত্ব এবং প্রতিটি দায়িত্ব ছিল আমার জন্য এক একটি লড়াই। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, জাতীয় সংসদ কেবল বসার জন্য একটি আসন নয়; সংসদ মানে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর। নারীর মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও তৃণমূল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথীর মতো পরিচ্ছন্ন ইমেজের, সাহসী এবং পেশাজীবী নেত্রীকে যদি দল থেকে মূল্যায়ন করা হয়, তবে তা নারায়ণগঞ্জের নারী সমাজের উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখবে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড নারায়ণগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য কার ওপর আস্থা রাখেন।