নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের দাসেরগাঁও এলাকার ফনকুল গ্রামে এই মাটি লুটের ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগী ভূমিমালিক হাজী গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব দুর্বৃত্তরা তার পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত কৃষিজমি ধ্বংস করছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (০৭ই জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে একদল দুর্বৃত্ত ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে হাজী গোলাম মোস্তফার ফসলি জমির মাটি কাটা শুরু করে। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তা তোয়াক্কা না করে মাটি কাটা চালিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে জমির মালিক বন্দর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা ভেকু ও ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এই চক্রটি।
ভুক্তভোগী হাজী গোলাম মোস্তফা জানান, “আমি দলিলমূলে জমির মালিক হয়ে দীর্ঘ বছর যাবৎ এখানে কৃষি কাজ করছি। কিন্তু হঠাৎ রাতের আঁধারে আমার জমিতে বেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই মাটিগুলো পাশের ‘৯০২’ নামক ইটভাটায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে বিক্রির জন্য। আমি বাধা দিলে তারা আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা এলাকার চিহ্নিত খারাপ প্রকৃতির লোক।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, জনৈক এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দাসেরগাঁও ও ফনকুল এলাকায় কৃষি জমি ধ্বংস করছে। তাদের ভয়ে সাধারণ কৃষকরা মুখ খুলতে সাহস পায় না। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা কাউকে পরোয়া করছে না।
উল্লেখ্য যে, কৃষিজমি রক্ষায় গত ৭ই জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩’ এর ১৩ ধারা অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বা জমির উপরিভাগ (টপ সয়েল) নষ্ট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ওই এলাকার কৃষিজমি স্থায়ীভাবে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
ভুক্তভোগী হাজী গোলাম মোস্তফা এবং স্থানীয় সচেতন মহল এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে এই মাটি খেকো চক্রকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।