নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্প নগরী এলাকার তোহা নিট ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে শতাধিক শ্রমিক এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এ সময় ভুক্তভোগী শ্রমিকরা বলেন, “আমরা দিন-রাত হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে উৎপাদন সচল রেখেছি, অথচ মাস শেষে আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। গত কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। একদিকে ঘরভাড়া বকেয়া পড়ায় বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়ার নোটিশ দিচ্ছে, অন্যদিকে দোকানের বাকি পরিশোধ করতে না পারায় দোকানিরা অপমান করছে। পেটে ক্ষুধা নিয়ে আর কতদিন ধৈর্য ধরব? আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।”
সংহতি জানিয়ে সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রাষ্ট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন-এর সভাপতি এফ এম আবু সাঈদ বলেন, “বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে শ্রমিকদের জীবন এমনিতেই ওষ্ঠাগত। তার ওপর মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে যে টালবাহানা করছে, তা অমানবিক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মালিকরা বিলাসী জীবনযাপন করলেও শ্রমিকদের হাড়ি চড়ছে না। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অবিলম্বে শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা এককালীন পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।”
সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রাষ্ট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন-এর বিসিক আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আবু সুফিয়ান বাবু বলেন, “শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে শিল্প-কারখানা টিকিয়ে রাখা যাবে না। আমরা মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তোহা নিট ফ্যাশনের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করুন। যদি শ্রমিকরা তাদের পাওনা না পায়, তবে বিসিক শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন গড়ে উঠলে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার মালিকপক্ষকেই নিতে হবে।”
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা অবিলম্বে তাদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনাদী পরিশোধের জোর দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।