দেশের তিনবারের জনপ্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া’র মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছে দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সাইবার রাজনৈতিক সংগঠন ও বিএনপি’র প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগী শক্তি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (BNCUP)’। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস. আলম রাজীব ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদুর রহমান এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী, বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬ টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
নেতৃদ্বয় বলেন, একটি জাতির অভিভাবককে হারিয়ে আমরা শোকস্তব্ধ, বাকরুদ্ধ; দেশমাতৃকার এক সাহসী কণ্ঠ, গণতন্ত্রের জননী, এ প্রজন্মের দেশমাতা, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার আমরা মাগফেরাত কামনা করছি। তিনি আমাদের জাতীয়তাবাদী সাইবার রাজনীতিরও চিরকালীন প্রেরণার উৎস। তাঁর মৃত্যুতে আজ শুধু একটি রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়নি, বরং আমাদের মতো কোটি জাতীয়তাবাদী সন্তানরা হারিয়েছে একজন মমতাময়ী দেশমাতাকে। কারাবরণ, অসুস্থতা আর ব্যক্তিগত শোককে তুচ্ছ করে তিনি আমৃত্যু দেশের মানুষের অধিকারের কথা বলে গেছেন। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী অবৈধ সরকারের শাসনামলে দেশনেত্রীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, গৃহবন্দী, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত করে প্রহসনের রায়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় কারাভ্যন্তরীণ রাখা -সহ যে পরিমাণ নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল, সেই নির্যাতনের তুলনায় আমরা যারা শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী হওয়ায় নির্যাতিত হয়ে হামলা -মামলার স্বীকার বা দেশত্যাগ করে নির্বাসনে জীবন কাটিয়েছি, সেসব নির্যাতন অতি তুচ্ছ। এরপরও তিনি ‘দেশ বাঁচাও -মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানে তাঁর সংগ্রাম দেশের মাটিতে থেকেই অবিরত চালিয়ে গিয়েছেন; মাথা নত করেননি অন্যায়ের কাছে, করেননি নির্যাতনকারীদের সাথে আপোষ।
অপরাজিতা, অদম্য, অনমনীয়, অবিচল, অটল, অপ্রতিরোধ্য -এই সব শব্দই যেন ম্লান হয়ে যায় তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তাকে বিশেষায়িত করতে। তাঁর বিদায়ে আমরা এমন এক আলোকবর্তিকা হারালাম, যার অভাব কোনোদিন পূরণ হবার নয়। বাংলাদেশ যখনই কোনো সঙ্কটে বা দুর্যোগে পড়েছে তখনই বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য নেতৃত্বে বিএনপি সেই সংগ্রামের হাল ধরেছিলেন শক্তভাবে। যিনি তাঁর জীবদ্দশায় কখনো কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথানত করেননি। তাঁর সততা, সাহস ও আপোসহীন দেশপ্রেম তাঁকে সাধারণ একজন গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছিল তিনবার এবং দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে সার্বজনীন নেত্রী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
আমরা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই মহীয়সী নারীকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং সেই সাথে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র, আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক, বিএনপি’র কান্ডারী তারেক রহমান সহ পুরো পরিবারকে এবং দেশবাসীকে এই শোক সইবার শক্তি দান করেন। আমরা আজকের এই শোক থেকে শপথ নিচ্ছি —বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা এবং দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার মনোভাবকে অসীম প্রেরণা হিসেবে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তথা ধানের🌾শীষের বিজয় ✌️ সুনিশ্চিত করে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের সবার কাঙ্খিত সেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখবো, ইনশাআল্লাহ।
সেই সাথে বিএনসিইউপি’র পক্ষ থেকে ৭ দিন ব্যাপী (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ – ৫ জানুয়ারী ২০২৬) বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচি সমূহঃ-
এক. এ প্রজন্মের দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৭ দিনব্যাপী (৩০/১২/২০২৫ থেকে ৫/১/২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক পালন করবে।
দুই. সংগঠনের সকল জেলা/প্রবাসী/মহানগর/উপজেলা/থানা সহ সকল ইউনিট কমিটির নেতৃবৃন্দের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিজ নিজ প্রোফাইল, পেইজ বা গ্র্যুপে শোক বেইজ সম্বলিত নির্দিষ্ট একই রকম কালো প্রোফাইল পিকচার ও কভার ফটো ৭ দিন ব্যবহার করবে।
তিন. দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে।
চার. সংগঠনের সকল জেলা/প্রবাসী/মহানগর/উপজেলা সহ সকল ইউনিট কমিটির উদ্যেগে দলীয় কার্যালয়ে/সংগঠনের কার্যালয়ে/মসজিদ/মাদ্রাসা/সুবিধাজনক স্থানে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে উক্ত ৭ দিনের মধ্যে কোরআন খতম ও দোয়ার কর্মসূচি পালন।
পাঁচ. কেন্দ্রীয়ভাবে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে ও নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং জেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ে রক্ষিত শোকবহিতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বাক্ষর করবে।
ছয়. সংগঠনের সনাতন/খ্রিস্টান/বৌদ্ধ/অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সদস্যদের উদ্যেগে নিজ নিজ উপাসনালয়ে প্রার্থনার কর্মসূচি পালন।