নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্র গুলিবিদ্ধ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা। সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ফতুল্লা থানাধীন পঞ্চবটি চাঁদনী হাউজিং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে ১০ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সমন্বয়কারী মোঃ বিপ্লব খাঁন বলেন, “ব্যক্তি স্বার্থ ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা চরম অমানবিক ও নিন্দনীয় কাজ। একটি নিষ্পাপ শিশুর শরীরে বুলেটের আঘাত আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দলীয় কোন্দল ও সহিংসতার কারণে নিরীহ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের জীবন বিপন্ন হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বিপ্লব খাঁন আরও বলেন, “অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সাথে এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার লড়াইয়ের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করেন এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।
গণসংহতি আন্দোলন মনে করে, এ ধরনের সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজে নৈরাজ্য বাড়বে। তাই অবিলম্বে সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার লক্ষে সোচ্চার হওয়ার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান।