তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৫৭ মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে নিহতের বাবা রফিউর রাব্বি বলেছেন, “পুলিশ প্রশাসনকে বলবো, আপনারা সরকারি দলীয় বাহিনী না হয়ে জনগণের হোন। অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শুধু ইউনিফর্ম বদলালে হবে না, জনগণের সেবক হতে হলে স্বভাবও বদলাতে হবে।”
রোববার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে রফিউর রাব্বি আরও বলেন, “হত্যা, গুম ও আয়নাঘরের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে এক দুঃসহ পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। জেলায় জেলায় মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাদের মনে রাখতে হবে—তারা যদি আবার সেই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখেন, তবে তা তাদের জন্যই বুমেরাং হবে।”
নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা নারায়ণগঞ্জে আবারও কারও কারও ওসমান পরিবারের মতো গডফাদার হয়ে ওঠার লক্ষণ দেখছি। পরিবহন, বাজার, ঘাট, ফুটপাত, এমনকি শহীদ মিনার পর্যন্ত তাদের চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সব চাঁদাবাজের তালিকা আছে। এদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিন, কারণ এরা দলের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে।”
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রফিউর রাব্বি বলেন, “১৩ বছরেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েনি। এখন দেশে গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। আমরা দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়ার দাবি জানাই। শুধু ত্বকী নয়; সাগর-রুনী, তনু এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদেরসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করেছিলেন। বর্তমান সরকারকে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং বিচার বিভাগকে পুরোপুরি স্বাধীন করতে হবে। ত্বকী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শামীম ওসমানসহ জড়িত সবাইকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা নেতা এস.এম. কাদির, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহামুদ হোসেনসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০১৪ সালে র্যাবের তদন্তে ওসমান পরিবারের টর্চারসেলে ত্বকীকে হত্যার প্রমাণ মিললেও তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপে বিচার প্রক্রিয়া থমকে যায়। এরপর থেকেই প্রতি মাসের ৮ তারিখ বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।