মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া নতুন সময়সূচি ও কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে করোনাকালের সেই ভয়াবহ ‘লকডাউন’ স্মৃতি। জনমনে এখন গভীর প্রশ্ন—দেশ কি আবারও এক দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে?
গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিস-আদালতের সময় কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছে। একই সাথে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব বিপণিবিতান ও শপিং মল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার একে ‘সাময়িক সাশ্রয়ী পদক্ষেপ’ বললেও মাঠপর্যায়ের চিত্র এবং জনশঙ্কা ভিন্ন কথা বলছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় যুবশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক সোহাইল ইসলাম ইফতি। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আজ বিপর্যস্ত। নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পপ্রধান জেলায় এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে আমাদের অর্থনীতির প্রাণ গার্মেন্টস ও অন্যান্য কলকারখানাগুলো চরম বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ না পেলে উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কয়েক লাখ শ্রমিকের জীবন ও জীবিকার ওপর।”
ইফতি আরও বলেন, “অফিসের সময় কমে যাওয়া এবং দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তেলের অভাবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা আশঙ্কা করছি, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এভাবে চললে দেশ আবারও করোনাকালের মতো ভয়াবহ অর্থনৈতিক মহামারীর মুখে পড়বে।”
অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতিকে ‘সরবরাহজনিত আঘাত’ (Supply Shock) হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, করোনার সময় মানুষ ঘরে থাকলেও পণ্য সরবরাহ সচল ছিল, কিন্তু এখন তেলের অভাবে উৎপাদন ও পরিবহন উভয়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি ও গার্মেন্টস শিল্পে বিদ্যুৎ রেশনিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিল্প মালিকদের মতে, উৎপাদন কমলে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না, যা সামগ্রিক কর্মসংস্থানে ধস নামাতে পারে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন মাস এই বিশেষ সাশ্রয়ী নীতি বজায় থাকবে। তবে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে কত দ্রুত স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে।