নারায়ণগঞ্জের বন্দরে টিকটক আইডির মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পেতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। বুধবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন আজিবপুর মাজার রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—নারায়ণগঞ্জ বন্দরের কদম রসুল (রসুলবাগ) এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে মোঃ রিফাত (২১) এবং একই থানার বাগবাড়ী এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে মোঃ রোমান (২১)।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ১৪ বছরের এক নাবালিকা। টিকটক আইডির মাধ্যমে ১নং আসামি রিফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৯ মার্চ রিফাত ভিকটিমকে দেখা করার কথা বলে বন্দর ঘাটে আসতে বলে এবং যাতায়াত খরচ বাবদ ৫০০ টাকা বিকাশ করে পাঠায়। ওইদিন ভোরে ভিকটিম তার বাড়ি চাঁদপুর থেকে লঞ্চযোগে নারায়ণগঞ্জে আসে।
এরপর দুপুর ১টার দিকে রিফাত ভিকটিমকে রিসিভ করে মিশুকযোগে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জ কদমরসুল এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ২নং আসামি রোমান উপস্থিত ছিল। সেখানে রিফাত ও রোমান ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে আসামিরা ঘটনাস্থলে নেশাদ্রব্য সেবন করে ভিকটিমের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
র্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সন্ধ্যায় আজিবপুর মাজার রোড এলাকা থেকে দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।