নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার জেরে সাঈদ আহমেদ সাব্বির (৩০) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান ও ১নং আসামি মো. সোহাগকে (৪২) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার (১৬ মার্চ, ) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানাধীন সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১ ও র্যাব-৭ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল। গ্রেফতারকৃত সোহাগ ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকার শের আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত সাব্বির ফতুল্লা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেটের (ওয়াইফাই) ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে, গ্রেফতারকৃত সোহাগ ও তার সহযোগীরা এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সমাজ সচেতন যুবক সাব্বির বিভিন্ন সময় আসামিদের এই অবৈধ মাদক ব্যবসার তীব্র প্রতিবাদ করতেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহাগ ও তার গ্যাং বিভিন্ন সময় সাব্বিরকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।
পূর্বশত্রুতার জেরে গত ৪ মার্চ ভোর পৌনে ৪টার দিকে সেহরির খাবার আনতে সাব্বির বাসা থেকে বের হন। তিনি শিবু মার্কেট মোড়ে সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউজের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সোহাগের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার পথ রোধ করে। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাব্বিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় সাব্বিরকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর ৬ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সাব্বির।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর পরই আসামিদের গ্রেফতারে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। আসামিরা গা ঢাকা দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। নিজস্ব গোয়েন্দা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১১ (সদর কোম্পানি) এবং র্যাব-৭ এর যৌথ আভিযানিক দল নিশ্চিত হয় যে, প্রধান আসামি সোহাগ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আত্মগোপন করে আছে। এরপর ১৬ মার্চ বিকেলে সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।