নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় মো. শাখাওয়াত হোসেন (৫৩) নামের এক বিএনপি নেতাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে মাদক কারবারিরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী মোল্লা বাড়ির পেছনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কদমতলী এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি সাগর (২২) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহত মো. শাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাগর দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকায় অবাধে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। শনিবার বিকেলে কদমতলী মোল্লা বাড়ির পেছনে সাগরের নেতৃত্বে একদল যুবক মাদক বিক্রি করছিল। এ সময় বিএনপি নেতা শাখাওয়াত হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের এই অবৈধ কাজে বাধা দেন এবং নিষেধ করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাগর ও তার সহযোগীরা শাখাওয়াত হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সাগর হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে শাখাওয়াত হোসেনের মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভবিষ্যতে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সাগর এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। এলাকায় তার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ চরম অতিষ্ঠ। আমি এই অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় তারা আমার ওপর এমন নৃশংস হামলা চালিয়েছে।” পুনরায় হামলার আশঙ্কায় তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, “মারধরের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত আছে।”