কলেজ শাখার সদস্য সচিব মুন্নি আক্তার প্রত্যাশার সঞ্চালনায় ও আহ্বায়ক রাইসা ইসলামের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়য়কারী জননেতা অঞ্জন দাস, ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও তোলারাম কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি রফিকুল বাপ্পি এবং ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ছাত্রনেতা সাইদুর রহমান।
আলোচনা সভায় অঞ্জন দাস বলেন, “তরুণ শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত অংশীদার। কিন্তু মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজন ভয়হীন পরিবেশ। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি তোলারাম কলেজে যে ভয়ের সংস্কৃতি কায়েম করা হয়েছিল, ছাত্র ফেডারেশন রাজপথে লড়াই করে তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটাতে হলে এই ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক করতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন আর শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাকে কুক্ষিগত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।”
ছাত্র ফেডারেশন জেলা সভাপতি ছাত্রনেতা সাইদুর রহমান বলেন,একটি আদর্শ ক্যাম্পাসের প্রাণ হলো ছাত্র সংসদ (টুকসু)। বিগত বছরগুলোতে দখলদারিত্বের রাজনীতি তোলারাম কলেজকে ভাগাড়ে পরিণত করেছিল। ভিন্নমত দমনে তারা নিপীড়নকে হাতিয়ার করেছিল, যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা বারবার হামলার শিকার হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা আর কোনো দখলদারিত্বের পুনরুত্থান চাই না। অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে। দখলমুক্ত ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়তে ছাত্র ফেডারেশন আপসহীন।”
সভাপতির বক্তব্যে কলেজ শাখার আহ্বায়ক রাইসা ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন কোনো সুযোগসন্ধানী সংগঠন নয়, বরং লড়াই ও সংগ্রামের ঐতিহ্যে গড়া একটি নাম। আমরা এমন এক তোলারাম কলেজ চাই, যেখানে ডামি রাজনীতির পরিবর্তে যুক্তিনির্ভর মেধার চর্চা হবে। বিগত দিনের দখলদাররা ক্যাম্পাসকে শিক্ষার অনুপযোগী করে তুলেছিল, কিন্তু সেই দিন এখন শেষ।
আমরা স্পষ্ট ঘোষণা করছি—শিক্ষার্থীদের মর্যাদা নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলা সহ্য করা হবে না। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস আমাদের ভিক্ষা নয়, বরং অধিকার। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে যাব। আমাদের লড়াই কেবল ইফতার মাহফিলে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ক্লাসরুম থেকে রাজপথ পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় শিক্ষার অধিকার সুসংহত করতে আমরা প্রস্তুত। আসুন, ভয় ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও গণতান্ত্রিক তোলারাম কলেজ গড়তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। ছাত্র ফেডারেশন অতীতেও আপনাদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও শাসকদলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রাজপথে থাকবে।”
আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ইফতার সম্পন্ন করা হয়।
ইফতার ও আলোচনা সভায় অন্যান্য ছাত্র সংগঠন থেকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নারায়ণগঞ্জ মহানগর এর সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজীজুল ইসলাম রাজীব, ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হেসেন জিয়া, বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মাদ সগীর ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রট মার্ক্সবাদী নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জয় হাসান।
উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ফেডারেশন তোলারাম কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাইসুল রাব্বী,সাবেক নেতৃত্ব আওলাদ হোসেন,সাবিত আল হাসান,অভি জাহিদ,নিরাক হাসান প্রেম।
উপস্থিত ছিলেন জেলার সহ-সভাপতি ইউশা ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধা। নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার আহ্বায়ক মৌমিতা আক্তার,যুগ্ম আহ্বায়ক অপূর্ব রায়,সদস্য সচিব শেখ সাদী,যুগ্ম সদস্য সচিব তাহমিদ আনোয়ার,সদস্য আহাদ। ভোলাইল শাখা কমিটির সদস্য আকিব হাসান,সোহাগসহ প্রমুখ।