ইনকিলাম মঞ্চের মুখপাত্র ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এই মশাল মিছিল বের হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ডের সভাপতিত্বে ও অর্থ সম্পাদক ফারহানা মুনার সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা রহমান বিথীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা আমলে নেয়নি। সরকারের এই উদাসীনতার ধারাবাহিকতাতেই আজ ঢাকায় একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে। সরকার কোনোভাবেই এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না।
বক্তারা অবিলম্বে ওসমান হাদীর ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একইসাথে নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে প্রয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মশিউর রহমান খান রিচার্ড বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা মানুষ আগেই প্রকাশ করেছিল, কিন্তু সরকার ছিল উদাসীন। আমরা এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে কোনো পক্ষ যেন এই ঘটনাকে পুঁজি করে নিজেদের রাজনৈতিক ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরি করতে না পারে, সেদিকেও সজাগ থাকতে হবে।”
মশাল মিছিলে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জামানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।