মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার হারন্দী মৌজার জমি নিয়ে বিজ্ঞ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৬, নারায়ণগঞ্জে একটি পিটিশন মামলা (নং- ২৮৮/২০২৪) দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জ সদরের দেওভোগ পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শরীফ হোসেন (৬৪)। মামলায় লৌহজং থানার গাঁওদিয়া এলাকার মোঃ শাহীন (৪০) ও মোঃ শামীম (৪৬), বন্দরের কল্যান্দী এলাকার আঃ রশিদ (৬৫) ও কবির মিয়া (৩২) এবং রুস্তমপুর এলাকার মোঃ আল আমিন (৩৫)-সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩/৪০৬/৪২০/৫০৬(২) ধারায় মারধর, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছিল।বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় পিবিআই ও সিআইডি নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ জেলা ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধান চালায়। মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ ঘটনার নিরপেক্ষ সাক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দা, দলিল লেখক এবং মামলার নথিপত্র দীর্ঘ পর্যালোচনা করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, বন্দর এলাকার হারন্দী মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে “হাত বায়না” বা মৌখিক বায়নার মাধ্যমে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের একটি ঐতিহ্যগত প্রচলিত নিয়ম রয়েছে। বাদী মোঃ শরীফ হোসেন তাঁর পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বিবাদীদের সাথে আলোচনা করে ১৯ লাখ টাকা মূল্যে নগদ হাত বায়নার টাকা গ্রহণ করেন এবং জমিতে বিবাদীদের দখল বুঝিয়ে দেন। বিবাদীরা সেখানে দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছন্দে চাষাবাদ ও ভোগদখলে আছেন।
পরবর্তীতে জমির দর বৃদ্ধি বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বাদীপক্ষ চুক্তি ভেঙে অন্যত্র জমি বিক্রয়ের অপচেষ্টা চালায় এবং দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করে। একইসাথে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে মারধর, গালিগালাজ, প্রতারণা ও চাঁদা দাবির মতো অসত্য ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে পিটিশন মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্তকালে পিবিআই ও সিআইডি নারায়ণগঞ্জ সরেজমিনে গিয়ে নিরপেক্ষ সাক্ষীদের (যাদের মধ্যে স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী, হুশিয়ারী ব্যবসায়ী ও দলিল লেখক অন্তর্ভুক্ত) জবানবন্দি রেকর্ড করে। সাক্ষীরা স্পষ্ট জানান, এলাকায় বিবাদীরা বিশ্বস্ততার সাথে হাত বায়নার ব্যবসা করে আসছেন এবং ঘটনার দিন কোনো মারধর, হামলা, প্রতারণা বা হুমকির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বাদীপক্ষের আনীত অভিযোগের পক্ষে কোনো ডাক্তারি সনদ, ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
সার্বিক তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা শেষে পিবিআই উপসংহারে উল্লেখ করে যে, বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে মূলত দেওয়ানী সংক্রান্ত বিরোধ চলমান রয়েছে। বাদীপক্ষ বিবাদীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। ফলে ফৌজদারি পেনাল কোডের ধারা অনুযায়ী আনীত অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় ১ হতে ৫ নং বিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলার দায় হতে অব্যাহতির জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।