বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্বের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা বিনষ্ট করতে একটি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও এনডিএ চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব। আসন্ন রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে আসন্ন রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত এক যৌথ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, “বাংলাদেশে এক সময় ধর্ম নিয়ে ব্যবসার রাজনীতি ছিল, হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী সংগঠন ছিল। সেগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার পর বর্তমানে দেশে একটি চমৎকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বলে আলাদা কোনো কথা নেই—সবাই আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়টিই এখন সবার কাছে বড় গর্বের।”
তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “১৬ই জুলাই রথযাত্রা এবং ২৪শে জুলাই উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রকারীরা যেন কোনো দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে না পারে, সেজন্য আমাদের প্রতিটি থানায় এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করতে হবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাইদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং উৎসব নির্বিঘ্ন করা আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে রাজীব বলেন, “আপনাদের মনে যে ভ্রান্ত ধারণা ছিল, আমাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা ইতিমধ্যে দূর হয়েছে। এ দেশ আপনাদেরও। আমার যতটুকু অধিকার আছে, আপনারা তার চেয়েও বেশি অধিকার প্রয়োগ করবেন। আপনাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।”
বর্তমান শিক্ষা পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, “পরীক্ষায় নকল করা বা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে পাস করার দিন শেষ। অটোপাশের কালচার থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে একটি চক্রান্ত চলছে। আমি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলব—আপনারা পড়াশোনায় মনোযোগী হোন এবং দেশ ও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করুন।”
ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “জাতীয়তাবাদী দলের একটি নেতাকর্মী বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ বিরোধী কোনো চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। আমরা এখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছি, তাই আমাদের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমাদের অতি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে হবে।”
সভায় জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রথযাত্রা উপলক্ষে প্রতিটি থানায় তদারকি কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।