১৬ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ ও প্রকৃত ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করেছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, শিশুটির অসুস্থতার সাথে রক্ত সংগ্রহের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সে বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ০৮ জুলাই ১৬ মাস বয়সী শিশু রাইয়ান একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনের রেফারেন্সে অস্ত্রোপচারের পূর্বপ্রস্তুতি (Pre-operative) হিসেবে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পপুলারে আসে। প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম যথাযথ নিয়ম মেনেই তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে।
পরদিন (০৯ জুলাই) রিপোর্ট সংগ্রহের সময় শিশুটির অভিভাবকরা জানান যে, তার হাতের নখ থেকে বাহু পর্যন্ত ফুলে গেছে। বিষয়টি জানার পরপরই পপুলার কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. এ কে এম শফিউল আলম ফেরদৌস, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সাইফুল আজম এবং অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেনের পরামর্শ গ্রহণ করে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর জানান, শিশুটি ‘সেলুলাইটিস’ (Cellulitis) নামক একটি দ্রুত বিস্তারযোগ্য প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যার লক্ষণ আগের দিন থেকেই প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল এবং এর সাথে রক্তের নমুনা সংগ্রহের কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত সম্পর্ক নেই। এটি শিশুটির শরীরে পূর্ব থেকেই বিদ্যমান একটি শারীরিক অবস্থা।
পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়। পপুলার কর্তৃপক্ষ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নিয়মিত শিশুটির খোঁজখবর রাখে। বর্তমানে চিকিৎসা শেষে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে।
উল্লেখ্য যে, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, “আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা। দীর্ঘ দিন ধরে আমরা সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার সাথে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছি। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য আমরা সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
প্রতিষ্ঠানটি আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সেবামূলক ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।