যাদের দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ন্যূনতম সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ নেই, তারাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার ও কটূক্তিতে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউছুফ খান টিপু।
গত ২ মে নারায়ণগঞ্জ পৌর ওসামানী স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে বেলুন উড়ানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত বিএনপির কিছু নেতার বিরুদ্ধে ওই অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
এডভোকেট টিপু তাঁর বক্তব্যে ঘটনার প্রকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “২ মে তারিখ সারা দেশের ন্যায় সিলেটে প্রধান ভেন্যু থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ স্টেডিয়ামেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের পরামর্শে আমি ততক্ষণ পর্যন্ত বেলুন উড্ডয়ন করিনি, যতক্ষণ না আমাদের অভিভাবক তারেক রহমান সিলেটে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “দলের চেইন অফ কমান্ড এবং নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব। যারা তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ পোষণ করেন না, তারাই মূলত নেতার উদ্বোধনের জন্য অপেক্ষা করতে চান না এবং বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। অতএব, যাদের দলের অভিভাবকের প্রতি কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই, তারাই এখন বিভিন্ন অপপ্রচার ও কটূক্তি করছে।”
সমালোচকদের হুশিয়ারি দিয়ে মহানগর বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “যে সকল শয়তানরা এই সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টিকে অন্য খাতে প্রবাহিত করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে চায়, তারাই বিএনপি ও শহীদ জিয়া পরিবারের আসল শত্রু ও দুশমন। জাতীয়তাবাদী আদর্শের কোনো সৈনিক নেতার অবমাননা সহ্য করবে না।”
উল্লেখ্য, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেলুন উড়ানো নিয়ে স্থানীয় কিছু মহলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এডভোকেট টিপুর এই স্পষ্ট বক্তব্যের পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই কঠোর অবস্থানকে দলের চেইন অফ কমান্ড রক্ষার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তৃণমূলের কর্মীরা।