রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথী।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ‘এক পরিবার, একাধিক পদ—গণতন্ত্রের জন্য কতটা ন্যায্য?’ এমন প্রশ্ন তুলে ধরেন তিনি। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথী তার লেখায় উল্লেখ করেন, রাজনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত যোগ্যতা, সততা ও জনগণের আস্থা। কিন্তু যখন একই পরিবারের একাধিক সদস্য সংরক্ষিত আসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদে অধিষ্ঠিত হন, তখন প্রকৃত গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এর ফলে সৃষ্টি হওয়া সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “একই পরিবারে একাধিক পদ থাকলে নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বের সুযোগ কমে যায়। এতে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হন এবং দলীয় গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। মূলত এটি স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে।”
দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে তিনি লেখেন:
১. এক পরিবার থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
২. সংরক্ষিত আসনসহ সকল দলীয় পদে ন্যায্য ও স্বচ্ছ বাছাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র টিকে থাকে সমতার ভিত্তিতে, স্বজনপ্রীতির ওপর নয়। আমরা চাই রাজনীতিতে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকুক।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যেহেতু তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তাই তিনি রাজনৈতিকভাবে এমন কোনো ‘ভুল পদক্ষেপ’ (এক পরিবারে একাধিক পদ) গ্রহণ করবেন না যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।
আসমা হেলেন বিথী মনে করেন, স্বচ্ছ ও পরিবারতন্ত্রমুক্ত রাজনীতিই কেবল একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারে। তার এই সাহসী অবস্থানকে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী সাধুবাদ জানিয়েছেন।