শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টিকটকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে গণধর্ষণ: মূলহোতা রিফাত ও রোমানকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত  ​আদর্শ সমাজ ও ইনসাফ কায়েমে দক্ষতা বৃদ্ধি চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনের বিকল্প নেই- আবদুল জব্বার  দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আলীগঞ্জ স্কুলের সামনে স্পীডব্রেকার স্থাপন কাশিপুরে আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ আরিফুল ইসলাম টিটু ঢালী সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: গাঁজা-হেরোইনসহ গ্রেফতার ৮ আড়াইহাজারে ৬৫ পুলিশের বিশাল অভিযান: স্ত্রী হত্যাকারী ও ডাকাতসহ গ্রেফতার ৪ নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক স্বাস্থ্য শিক্ষা সেশন অনুষ্ঠিত ফতুল্লায় ১৩ বছরের কিশোর লামিম ৩দিন ধরে নিখোঁজ নারায়ণগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৬ 🪪
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার প্রতারণায় নেমেছে। ৭০% মানুষের গণরায়কে অস্বীকার করছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১২- ১৩টি অধ্যাদেশ তারা বাতিল করতে চায়। জনগণ তাদের টালবাহানা বুঝতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। 
৩রা এপ্রিল (শুক্রবার) নারায়ণগঞ্জের শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর আলহাজ্ব মমিনুল হক সরকারের সভাপতিত্বে ও  কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সদস্য ( রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন , বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য  মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ , কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আব্দুল জাব্বার ও   মহানগরী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন,  নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগগীয় সম্পাদক  আবু সাঈদ মুন্না, তারবিয়াত সেক্রেটারি অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের অন্যান্য বিভাগের দায়িত্বশীল সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ৫ শতাধিক সদস্য (রুকন) দায়িত্বশীলবৃন্দ।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম আরো বলেন, এই বারের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের বোনেরা ঈর্ষনীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের শোকরগোজার হতে হবে। ১৯৪১ সালে ২৬ আগস্ট মাত্র ৭৫ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গঠিত হয়। কিন্তু আজকে আপনাদের নারায়ণগঞ্জেই কয়েকশত রুকন রয়েছেন। এখন মানুষ স্বপ্ন দেখে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাবে। জেল- জুলুম জামায়াতে ইসলামী কে এগিয়ে দিয়েছে। যারা জামায়াতে ইসলামী কে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিলো তারা দুপুরের ভাত না খেয়ে পালিয়েছে। বাধা উপেক্ষা করে আমরা সামনে এগিয়ে যাবো। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যখন যে সিদ্ধান্ত সংগঠন দিবে তখন সে সিদ্ধান্ত মেনে নেয়াই জামায়াতে ইসলামীর সকল পর্যায়ের জনশক্তির দায়িত্ব । স্থানীয় নির্বাচনে আমরা সকল পয়েন্টে প্রার্থী দিব। জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া সহজ। আগামী দিনে ইনসাফের বাংলাদেশে আমরা নেতৃত্ব দিব। জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের সকল মানে উন্নতি করতে হবে। এই সরকার হচ্ছে জুলাই গণ অভ্যুত্থান এর প্রোডাকশন। তিনি আরো বলেন আমাদের আমীরে জামায়াত বলেছেন, ভোট কারচুপি হলেও জাতীয় স্বার্থে আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছি। তার মানে এই না আপনারা যা ইচ্ছে তা করবেন আর আমরা মেনে নিব। মানুষ মনে করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার প্রতারণায় নেমেছে। ৭০% মানুষের গণরায়কে অস্বীকার করছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১২- ১৩টি জাতীয় অধ্যাদেশ তারা বাতিল করতে চায়। জনগণ আপনাদের টালবাহানা বুঝতে পেরেছে। ১৯৯১ সালে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে আপনারা ক্ষমতায় এসেছিলেন। আবার ১৯৯৬ সালে কেয়ারটেকার সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন৷ এখন আপনারা কাদের খুশি করার জন্য জনগণের রায়কে বাস্তবায়ন করতে চান না! জনগণ আপনাদের এই অভিপ্রায় মেনে নিবে না।
দায়িত্বশীলদের কিছু প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,  জোটের স্বার্থে আমরা বিজয়ী হওয়ার মতো নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসন ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা ভোটের মাঠে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেননি। পদ-পদবির জন্য কোন স্তরেই আকাঙ্ক্ষা করা যাবে না। যারা আমাদের বিরোধীতা করে তাদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, অতীতে আমরা অনেক নির্বাচন করেছি সেগুলো থেকে এইবার আমরা একটা ব্যতিক্রম নির্বাচন  করেছি। আমাদের সেক্রেটারি জেনারেলের ভোট ছিনতাই হয়েছে। আমাদের উপর অনেক অত্যাচার জুলুম হয়েছে।  আমাদের দায়িত্ব আমাদের বুঝে নিতে হবে। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব বুঝে নিতে না পারি আল্লাহ আমদের দায়িত্ব দিবেন না। আমাদের আদর্শিক মানে আরো মজবুত হতে হবে। আমাদের পুজি ঠিক রাখতে হবে। পুজি ঠিক না থাকলে অল্প ঝড়েই পাট গাছের মত শুয়ে পরবো। সামনে আমাদের স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রয়োজনে দ্বীন কায়েমের জন্য আল্লাহ ফেরেস্তা পাঠাবেন কিন্তু ময়দানে আবুবক্করদের থাকতে হবে। নিজেদের আত্নসমালোচনা নিজেরাই করেন। কোন দায়িত্বশীল লাগবেনা। যার যার হিসাব সে সে দিয়েই জান্নাতে যেতে হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর আলহাজ্ব মমিনুল হক সরকার বলেন, আমাদের জনশক্তির চেয়ে অনেক বেশী ভোট আমরা জাতীয় নির্বাচনে পেয়েছি। সেই ভোটারদের আমাদের ধরে রাখতে হবে। সাংগঠনিক কাজ ও সমাজ কল্যান মূলক কাজ বাড়াতে হবে। জামায়াত কর্মী মানে সমাজ কর্মী। সংগঠনের বায়তুল বৃদ্ধি করতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ও সুশৃঙ্খল একটি। সাংগঠনিক সুশৃঙ্খলায় আরো মজবুতি অর্জন করতে হবে। আমরা অতীতেও বাতিলের সাথে আপোস করিনি আর ভবিষ্যৎতে ও বাতিলের সাথে আপোষ করবো না। অর্থনৈতিক লেনদেন সচ্ছতার সাথে করতে হবে। ইসলামী আন্দোলনে স্থানীয় ও অ-স্থানীয়, সিনিয়ার ও জুনিয়ার কোন মৌলিক বিষয় নয়। আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। এগুলোই জাহিলিয়াত। পদ ও পদবির জন্য আশা পোষণ করা ও জাহিলিয়াত। এই ধরনের চিন্তা থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে। যারা সংগঠনের নীতি ও নৈতিকতার সাথে একমত হতে পারেনি তারা সংগঠন থেকে ছিটকে পড়েছেন ও হারিয়ে গেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আব্দুল জাব্বার বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষ আশা করে রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ ভাবে মেরামত হবে কিন্তু রাষ্ট্র কি মেরামত হয়েছে? প্রয়োজনে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য আবার দায়িত্ব নিতে হবে। তারা বলেছিল হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। এখন তারা পার্শ্ববর্তী দেশের কথা রাখতে গিয়ে তা করেত পারছে না। দেশের ৭০% দেশ প্রেমিক জনতা জীবিত থাকতে তাদের আশা পূরণ হবে না।আমি বিশ্বাস করি সত্য মানুষের সমাগত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব ছাড়া আগামীতে বাংলাদেশ পরিচালনা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
সমাজের যারা প্রভাবশালী তাদের মাঝে সরাসরি দাওয়াতি কাজ করে করতে হবে। প্রত্যেক সদস্য যদি টার্গেট নেন আর দাওয়াতি কাজ করেন সমাজের ৮০% লোক এই দাওয়াত গ্রহন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের কাছে এসেছে তাদেরকে নিয়ে পাড়া মহল্লায় ইউনিট গঠন করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী এযাবত অনেক পরিকল্পনা করেছে। আমি মনে করি সেই পরিকল্পনার সাথে আমার স্বভাবটাকে ও দাওয়াতি স্বভাব তৈরি করতে হবে। আপনাদের মেহনত কে সফল করতে হলে নিয়ত পরিচ্ছন্ন করতে হবে। নিয়ত ঠিক না থাকলে আপনার পরিশ্রম কোন কাজে লাগবে না। আমাদের বাড়ি মধ্যে দাওয়াতি কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান সংগঠনের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে বলেন, দাওয়াত শুধুমাত্র দাড়িপাল্লার দাওয়াত নয়। ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংগঠনকে মজবুতি অর্জন করতে হবে।  সকল সেক্টরে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা ও জনশক্তির মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজসেবার মাধ্যমে সংগঠনের মজবুতি অর্জন করতে হবে। ছাত্র- জনতার অভ্যুত্থানের ফলে গঠিত অন্তবর্তী সরকারের এর জন আকাংখার রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কার করতে হবে। রুকনদের প্রত্যেকের পারিবারিক দাওয়াতি ইউনিট থাকতে হবে। সাংস্কৃতিক বিভাগের উদ্যোগে দাওয়াতি কাজ বৃদ্ধি করতে হবে। সংগঠন সম্প্রসারণে সদস্য, কর্মী, সহযোগী ও ইউনিট বৃদ্ধি করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের তারবিয়াত সেক্রেটারি অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস বলেন, আমাদের ভাইয়েরা ইসলামের সব বোঝেন কিন্তু আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা ফরজ এটা বুঝেন না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের বুঝার তৌফিক দিয়েছেন যে ইকামাতে দ্বীনের কাজ করা ফরজ।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102