নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সিরিজ ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হোসেন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আসামি হোসেন মিয়া আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
গ্রেপ্তারকৃত হোসেন মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার বরপা এলাকার মৃত আবু সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। পিবিআই জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৮ থেকে ১০টি ডাকাতি মামলা রয়েছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হোসেন মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। এর আগে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও ধূর্ত এই ডাকাত আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হোসেন মিয়া মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার একটি ডাকাতি মামলায় (মামলা নং-০৬, তারিখ- ০৩/১১/২০২৫) গত ৯ নভেম্বর থেকে জেলহাজতে আটক রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে আসামিকে অত্র মামলায় ‘সন্দিগ্ধ’ হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পিবিআইয়ের চৌকষ জিজ্ঞাসাবাদ টীমের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হোসেন মিয়া ডাকাতির ঘটনার সাথে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। রিমান্ড চলাকালীন সে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের নাম-ঠিকানা এবং তাদের অপরাধ সংগঠনের কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। তদন্তের স্বার্থে সহযোগীদের নাম এখনই প্রকাশ করা না হলেও পিবিআই জানিয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত পেশাদার ডাকাত দল।
২ দিনের রিমান্ড শেষে আজ ৫ ফেব্রুয়ারি হোসেন মিয়াকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে সে স্বেচ্ছায় সিরিজ ডাকাতির লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই চক্রটির মূলোৎপাটন করতে তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।