শীতে নগর জীবনে নীরব কাঁপুনি: আসমাউল হুসনা
আজ পৌষের ১০ তারিখ। বাংলা ক্যালেন্ডারের এই সময়টায় শীত তার আসল রূপে ধরা দিতে শুরু করে। ভোরের কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর সন্ধ্যার নীরব শিরশিরে ঠান্ডা—সব মিলিয়ে শহর যেন ঢুকে পড়েছে শীতের গভীর অনুভবে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে শীত তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরতি মানুষজনের প্রতিটি পদক্ষেপেই যেন অনুভূত হচ্ছে শীতের নীরব চ্যালেঞ্জ। কনকনে হাওয়ায় হাত গুটিয়ে দ্রুত পা চালাতে দেখা গিয়েছে পথচারীদের।
শীতের তীব্রতায় শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দেখা যাচ্ছে আগুন জ্বেলে শরীর গরম করার দৃশ্য। রিকশাচালক, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও চায়ের দোকানের ক্রেতারা আগুন ঘিরে দাঁড়িয়ে হাত ছেঁকে নিচ্ছেন। আগুনের পাশে জমে উঠছে অল্প কথার আড্ডা—যেখানে শীতের কষ্ট ভাগাভাগি হচ্ছে মানুষের মধ্যে।
পৌষের শীত মানেই উষ্ণ কাপড়ের বাজারে ভিড়। শহরের মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেড়েছে সোয়েটার, শাল, জ্যাকেট আর মাফলার কেনার ভিড়। বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েকদিনে শীতের পোশাকের বিক্রি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পৌষের এই শীত নগর জীবনে কেবল কষ্টই আনেনি, এনেছে এক ধরনের নীরব সৌন্দর্যও। কুয়াশায় মোড়া ভোর, আগুনের পাশে জমে ওঠা মানুষের গল্প আর উষ্ণ কাপড়ের ভিড়—সব মিলিয়ে পৌষের শীত যেন শহরের জীবনে লিখে যাচ্ছে আলাদা এক অনুভূতির গল্প।