শিক্ষার ভিত্তি স্থাপনকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের ২২ জন গুণী প্রধান শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করেছে বিদ্যানিকেতন হাই স্কুল ও বিদ্যানিকেতন ট্রাস্ট। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যানিকেতন মিলনায়তনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র এবং শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যানিকেতন ট্রাস্টের সদস্য ও শিক্ষানুরাগী কাসেম জামাল, বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও ট্রাস্ট সদস্য বদিউজ্জামান বদু, শিক্ষাবিদ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল হক রুমন রেজা, ট্রাস্টের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, কোষাধ্যক্ষ কৃষ্ণধন সাহা, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ট্রাস্ট সদস্য আফজাল হোসেন পন্টি, সমাজসেবক মনির হোসেন খান, ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহেল, পরিচালনা পরিষদের সদস্য প্রদীপ গোপ, আফরোজা আক্তার, পারভেজ শরীফ এবং প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম সোপান, যেখানে তাদের চরিত্র ও শিক্ষার ভিত সুদৃঢ় হয়। অথচ সমাজে প্রাথমিক শিক্ষকদের অবদান প্রায়শই যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। বিদ্যানিকেতনের এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।”
সম্মাননা প্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষকতা একটি মহান পেশা হলেও এই পেশায় অনেক সময় শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। আজ বিদ্যানিকেতনের এই সম্মাননা আমাদের মনে নতুন করে অনুপ্রেরণা ও উদ্দীপনা জোগাবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও উৎসাহিত করবো”
সংবর্ধিত শিক্ষকরা হলেন, নুরুন্নাহার বেগম, মাহবুবা খানম, ভজনা রানী পাল, সাজেদা আক্তার বীথি, মো. নিজাম উদ্দিন, শুভাশীষ রায়, জেসমিন আক্তার, একেএম খুরশীদ আলম, মোশারাত মোন্তাজীম, সুরাইয়া আক্তার, সালমা আক্তার, সেলিনা মোয়াজ্জেম, মরিয়ম বিন নাহার, অজিত কুমার দাস, হোমায়রা, সিফাত আরা খানম, গৌতম মজুমদার, আরিফা ইয়াসমিন, তাসলিমা আক্তার, সাহিদা আহমেদ, শাম্মী আক্তার ও আঞ্জুমানারা বেগম।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যা সকলের মন ছুঁয়ে যায়। এই উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রতি সমাজের সম্মান ও স্বীকৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।