হত্যা মামলায় বাকি আসামিরা পলাতক থাকলেও আনোয়ার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হত্যা মামলার মূল কাগজপত্র ফাইল ও তার অবৈধ যাবতীয় প্রমাণাদি ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে।
এ নিয়ে নিহতের স্ত্রী ছাবিনা আক্তার ৬৭ জনের নাম ও আরও অজ্ঞাত ১৫০/২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি গত জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখে একটি মামলা করেন।
মামলায় নিহতের স্ত্রী ছাবিনা উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টে নারায়ণগঞ্জে সাইনবোর্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে ছাত্র-জনতার সঙ্গে মামুনও মিছিলে অংশগ্রহণ করে। এসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা ছাত্রদের ওপর দেশীয় অস্ত্র পিস্তল, রিভালবার, শর্টগান, হকিস্টিক, চাইনিজ কুড়াল ও গ্রেনেড বোমাসহ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এতে কয়েকজন ছাত্র আহত হয়। সে সময় মামুন তাদের উদ্ধার করতে গেলে তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লা কলেজে নেওয়া হয়। পরেরদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এদিকে, মামুনকে হারিয়ে তার স্ত্রী পাগল প্রায়। অন্যদিকে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন খবরে হতাশ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে মামুনের স্বজনরা। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি করেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি তথ্য নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।
উল্লেখ্য, নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরার এলাকার বাসিন্দা। তিনি বরাব গ্রামের অবস্থিত ম্যাক সোয়েটার কারখানায় চাকরি করতেন। অন্যদিকে মামলার অন্যতম আসামি আনোয়ার (২৮) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বালিয়াকান্দির মৃত শাহজাহানের ছেলে। বর্তমানে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার মাসাব এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে মাসাব থেকেই তিনি ব্যবসা ও রাজনীতি করে আসছেন বলে জানা যায়। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলীসহ ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।