পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সকল শ্রমিকের চলতি মাসের বেতন ও পূর্ণ বোনাস পরিশোধের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট। একইসঙ্গে শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা বন্ধের জোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর এবং গাবতলী-পুলিশ লাইন-তাগারপাড় শাখার সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সম্পদের ন্যায্য বণ্টন এবং সকল নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এরই প্রেক্ষিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শ্রমিকরা স্কপের ৯ দফা ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে ১৫ দফা দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে তুলে ধরেছেন। কিন্তু নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর ঘোষণা দিলেও শ্রমিকের অধিকার, শ্রম আইন ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে সুস্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আসন্ন ঈদ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ ঈদের সময় পরিবার নিয়ে একটু ভালো খাবার ও নতুন পোশাকের প্রত্যাশা করেন। কিন্তু মালিকপক্ষের টালবাহানা ও সময়মতো বেতন-বোনাস না দেওয়ায় প্রতি বছরই ঈদের আগে শিল্পাঞ্চলগুলোতে অস্থিরতা ও সংকট সৃষ্টি হয়।
তারা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক-বিমা খাতে মূল বেতনের (বেসিক) সমপরিমাণ বোনাস দেওয়া হলেও গার্মেন্টস শিল্পে নিয়মের কোনো বালাই নেই। কোথাও বেসিকের অর্ধেক দেওয়া হয়, কোথাও আবার বোনাসের নামে মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা বকশিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি অনেক কারখানায় ছুটির ঠিক আগের দিন বোনাস দেওয়া হয়, ফলে শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে স্বস্তিতে বাড়ি ফেরার সুযোগটুকুও পান না।
মালিকপক্ষের এমন খামখেয়ালিপনা ও বঞ্চনার কারণেই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয় উল্লেখ করে নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সমাবেশ থেকে তারা সুস্পষ্ট দাবি জানান— আগামী ২০ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের চলতি মাসের বেতন, পূর্ণ বোনাস এবং সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে। একইসঙ্গে ঈদের আগে কোনোভাবেই কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না। ঈদের অন্তত ১০ দিন আগে পাওনা বুঝিয়ে দিলে শিল্পাঞ্চলে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।