নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ নগরী। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে এনসিপির (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) নেতাকর্মীরা নগরীতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। এ সময় বিকেএমইএ সভাপতিকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত করার হুঁশিয়ারি দেন দলটির নেতারা।
মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হন। বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা “হাতেমের ঠিকানা এই বিকেএমইএতে হবে না”, “হাতেম তুই গেলি কই”, “ফ্যাসিস্টের দোসরের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও” ইত্যাদি স্লোগানে এলাকা প্রকম্পিত করেন।
বিক্ষোভ শেষে সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় যখন এক হাজারের বেশি প্রাণ ঝরে পড়েছিল, তখন এই মোহাম্মদ হাতেম একে ‘ছাত্রদের তাণ্ডব’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ছাত্রদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে উস্কানি দিয়েছিলেন। সেই হাতেমরাই আজ পর্দার আড়ালে থেকে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আজ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জনগণের নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আর এই ন্যাক্কারজনক কাজে তাকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপির একাংশ। তারেক রহমান বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, যার প্রমাণ আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি। তারা পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করছে।”
বক্তারা সাফ জানিয়ে দেন, রক্ত দিয়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিস্টের দোসর বা খুনিকে ছাড় দেওয়া হবে না। শওকত আলী বলেন, “জুলাই বিপ্লবকে ‘তাণ্ডব’ বলার অপরাধে মোহাম্মদ হাতেমকে ছাত্র-জনতার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি তিনি ক্ষমা না চান, তবে তাকে নারায়ণগঞ্জে স্থায়ীভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।”
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নিরব রায়হান, জাবেদ আলম, শ্রমিক শক্তির সদস্য ফয়সাল, এনসিপির সদস্য জুবায়ের তানভীর, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মাহফুজ খাঁন, সদস্য সচিব সারফারাজ হক সজীব, মহানগরের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব জহিরুল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্যকে অবরুদ্ধ করার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।