নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব গোপালনগর এলাকায় সরকারি ড্রেন নির্মাণের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ একই পরিবারের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সুলতানা (৩৭) বাদী হয়ে স্থানীয় রশিদ মেম্বারসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সুলতানা ও তার স্বামী মিজানুর রহমানের বাড়ির সামনে দিয়ে সরকারিভাবে একটি ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছিল। এলাকার প্রভাবশালী ১নং বিবাদী রশিদ মেম্বার (৫০) জোরপূর্বক ওই ড্রেনটি সুলতানার বসতবাড়ির ওপর দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যার জন্য বাড়িটি ভাঙার প্রয়োজন পড়ত। এতে সুলতানা ও তার পরিবার বাধা দিলে রশিদ মেম্বার তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন।
এরই জেরে ঘটনার দিন সকালে রশিদ মেম্বারের নেতৃত্বে মাসুম (৩২), হাবু (৪০), মেহেবুর (৪০), রুবেল (৩৫), খোয়াজ আলী (৬৫), মামুন (৩৫) ও আলমগীর (৪৬) লোহার রড ও কাঠের ডাসাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে সুলতানার বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা সুলতানা ও তার স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় রশিদ মেম্বারের নির্দেশে হাবু কাঠের ডাসা দিয়ে মিজানুর রহমানকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
এ সময় স্বামীর চিৎকারে সুলতানা, তার দেবর মতিবুর (৩৩) এবং দেবরের স্ত্রী রুনা (২৫) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। একপর্যায়ে সুলতানা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে রড ও কাঠের ডাসা দিয়ে পেট, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করা হয়।
পরে আহতদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে হামলাকারীরা ওই পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগী সুলতানা থানায় গিয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।