নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দলীয় কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আজাহারুল ইসলাম (৫৫) নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার ত্রিশকাহনিয়া এলাকার বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজাহারুল ইসলাম কাঞ্চন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং নরাবরটেক এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ত্রিশকাহনিয়া বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি এবং পদবি বণ্টন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাজিব ও হাসান মিয়ার সঙ্গে অপর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সবুজ মিয়ার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, আজাহারুল ইসলাম সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের রাজিব ও হাসান তার বুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সবুজ মিয়া ও এমারত মিয়া নামের আরও দুই নেতা আহত হন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় নিহত আজাহারুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে রাজিব, হাসান, মিলন ও আবুল—এই চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, আজাহারুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং মামলাটি প্রক্রিয়াধীন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।