আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থান, আইনি সুরক্ষা, জীবন বিকাশ উপযোগী মজুরি, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ও বাস্তবায়নের দিক-নির্দেশনা থাকার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানান।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রমিকনেতা আহসান হাবিব বুলবুল। সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা সহসভাপতি হাসনাত কবীর।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে আহসান হাবিব বুলবুল বলেন, “৫ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-শ্রমিক-জনতার এক রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যুত্থান হয়েছিল। ব্যাপক শ্রমিকের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু একটি শ্রম সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও তাদের সুপারিশকৃত ২৫ দফা বাস্তবায়নে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের সময়েও দ্রব্যমূল্য দফায় দফায় বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি। স্কপ-এর পক্ষ থেকে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ ৯ দফা দাবি দেওয়া হলেও সরকার এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার হলো শ্রমজীবী মানুষ। যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তাদের অবশ্যই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানাতে হবে। শ্রম সংস্কার কমিশনের ২৫ দফা এবং স্কপের ৯ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকতে হবে। শ্রমিকরা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রতিশ্রুতিগুলো বিবেচনা করবে।”
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল ‘লাল পতাকা মিছিল’ বের করা হয়। মিছিলটি নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে শ্রমজীবী মানুষের জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অবাধ অধিকার প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।