আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই জনসভায় তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন। তারেক রহমানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগর বিএনপির তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বিএনপির একাধিক দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী ২২ জানুয়ারি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আসন্ন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন তারেক রহমান। সিলেটে কয়েকটি জনসমাবেশ শেষ করে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। ঢাকা ফেরার পথেই মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন তিনি।
তারেক রহমানের এই জনসভাকে সফল করতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। সমাবেশের সম্ভাব্য কয়েকটি স্থান ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি রাতে এ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু এবং আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, এই তিন নেতাই আসন্ন নির্বাচনে নিজ নিজ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তারেক রহমান যখন নারায়ণগঞ্জে পৌঁছাবেন, তখন বিকেল হয়ে যেতে পারে। তবে সময় যা-ই হোক না কেন, প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে এবং জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। জেলার প্রতিটি উপজেলা, থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতির সঞ্চার হবে। প্রিয় নেতা নিজ হাতে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন—এটি নেতাকর্মীদের জন্য বড় পাওয়া।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের আগমনী বার্তায় নারায়ণগঞ্জের রাজপথ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন কেবল তাঁর আগমনের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।