জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি বায়েজিদ ভূইয়া তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আস্থা ফিড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাবুর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই; তবে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বর্তমানে নতুন করে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।
বায়েজিদ ভূইয়ার দাবি, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে তিনি মতপ্রকাশ করেছেন এবং এতে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। তাঁর মতে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা অপরাধ হতে পারে না।
ওই ফেসবুক পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুল ইসলাম বাবুর পক্ষ থেকে বায়েজিদ ভূইয়ার নামে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। পরে লিগ্যাল নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে বায়েজিদ ভূইয়ার সমর্থকরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বায়েজিদ ভূইয়া বলেন,
“আমি কোনো অপপ্রচার করিনি। প্রকাশ্যে থাকা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েই প্রশ্ন তুলেছি। ভিন্নমত দমন করতে আইনি নোটিশ পাঠানো গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও আমি বিচলিত নই, কারণ মানুষ আমার পক্ষে আছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনি প্রক্রিয়াতেই এর জবাব দেব।”
এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সাইফুল ইসলাম বাবু বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ কৃষকের জমিজমা দখল করেছেন এবং সরকারি লিজের সম্পত্তি দাতা সেজে নিজের নামে করে নিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ওই সব জমি থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী হাসান মাহমুদ ও সাবেক সেনাবাহিনী প্রধানকে এনে সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরির উদ্বোধন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে সাইফুল ইসলাম বাবুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই বক্তব্য তাঁর সম্মানহানি করেছে বলেই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।