আজ ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে গণসংহতি আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। সকালে শহরের প্রেসিডেন্ট রোডস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে একটি সুসজ্জিত র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাষাড়া বিজয়স্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সমন্বয়কারী বিপ্লব খাঁন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
বিপ্লব খাঁন বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এক ঐতিহাসিক জনযুদ্ধ। কিন্তু লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার পরও দেশে দীর্ঘদিন ধরে একচেটিয়া শাসনব্যবস্থা কায়েম থাকায় বৈষম্য দূর করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “৭১–এর চেতনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে হাজারো তরুণ-যুবকের রক্তত্যাগের মধ্য দিয়ে গত ৫৪ বছরের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের গণআকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে পুনর্জীবিত করেছে। এই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।”
আগামী দিনের রাজনৈতিক করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, “দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে আসন্ন নির্বাচনে জনগণকে গণভোটে জুলাই সনদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিতে হবে। টাকা ও পেশীশক্তির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারি।”
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম, নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন আলম, সদস্য আব্দুল আল মামুন ও আওলাদ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগরের নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রানী সরকার, সদস্য ফারহানা মানিক মুনা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমানসহ জেলা ও মহানগরের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।