নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভোজ্য তেলবাহী ট্রাক ডাকাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রায় ৪ বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য রনি হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আসামি বিজ্ঞ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
মামলার নথি ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জের সিটি মিল থেকে প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৬০ ড্রাম (১২,২৪০ লিটার) সয়াবিন ও সুপার পাম্প অয়েল নিয়ে একটি ট্রাক টাঙ্গাইলের এ্যালেঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ থানাধীন কর্নগোপ এলাকায় একটি সাদা মাইক্রোবাস ট্রাকটির গতিরোধ করে। মাইক্রোবাস থেকে ৬/৭ জন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নেমে চালক ও হেলপারকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে চোখ বেঁধে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। পরবর্তীতে ভোজ্য তেলসহ ট্রাকটি লুঠ করে চালক ও হেলপারকে নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ট্রাক মালিক পংকজ কুমার সাহা রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই-এর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)-এর নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তদন্ত শুরু করেন।
তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি রনি হোসেনের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভাড়া করা হয়েছিল। রনিকে গ্রেফতারের জন্য চাদঁপুর জেলার ফরিদগঞ্জ এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পিবিআই-এর চৌকস টিম তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত রনি হোসেনকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রনি ডাকাতির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং তার সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। রিমান্ড শেষে আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আসামি রনি হোসেনকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে সেচ্ছায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুঠ হওয়া মালামাল উদ্ধারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।