নৃশংস তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৫৪ মাস পূর্ণ হলেও বিচারহীনতার অবসান না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ। সোমবার (৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে বক্তারা এই দাবি জানান।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্বকীর পিতা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।
বক্তব্যে রফিউর রাব্বি বলেন, “শেখ হাসিনা তার শাসনামলে ঘাতক ওসমান পরিবারকে রক্ষা করার জন্য দীর্ঘ সাড়ে এগারো বছর ত্বকীর বিচার কাজ বন্ধ করে রেখেছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই অচলাবস্থা কাটবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সরকার বদল হলেও বিচার ব্যবস্থায় এখনো কার্যকর কোনো পরিবর্তন আমরা দেখছি না। এমনকি গতকাল এই মামলার একশ কার্যদিবস অতিবাহিত হলেও তদন্তকারী সংস্থা র্যাব আজও আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে, কিন্তু বর্তমানে ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক বৈষম্য আরও প্রকট হচ্ছে। একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী দেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভিন্ন মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও সাগর-রুনী, তনু ও ত্বকী হত্যার বিচারে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ বলেন, “দেশে এখনো সব ধর্মের ও মতের মানুষের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাধা বিদ্যমান। মাফিয়া ও গডফাদারদের যে রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, তার খোলনলচে এখনো পাল্টায়নি।”
সমাবেশে বক্তারা ত্বকী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত শামীম ওসমানসহ সকল চিহ্নিত ঘাতককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার শুরু করার জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন— নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা জিয়াউল ইসলাম কাজল, জেলা সিপিবির সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, জেলা বাসদের সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা এবং আবৃত্তি শিল্পী ফাহমিদা আজাদ।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০১৪ সালে র্যাব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছিল, ওসমান পরিবারের টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই মামলার চার্জশিট এখনো আদালতে দাখিল করা হয়নি। এই বিচারহীনতার প্রতিবাদে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।