আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে মোট ৫৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলার পাঁচটি আসনের জন্য মোট ৯১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতি শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫৭ জন প্রার্থী তা জমা দিয়েছেন। অধিকাংশ প্রার্থী শেষ দিন বিকেল ৫টার মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন, যেখানে আগের দিন মাত্র তিনজন প্রার্থী জমা দিয়েছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, আসনভিত্তিক মনোনয়নপত্র দাখিলের সংখ্যা হলো: নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ৮ জন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ১০ জন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ১১ জন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৫ জন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১৩ জন।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবেও একাধিক হেভিওয়েট নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
আসনভিত্তিক প্রার্থীদের বিবরণ:
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ):
এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল হোসেন ও মো. হামিদুল হক খোকন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইমদাদুল্লাহ, সিপিবির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার):
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর। অন্যান্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ হাবিব ও সিপিবির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ):
এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ, গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী, খেলাফত মজলিসের মুহা. শাহজাহান, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, এবি পার্টির আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী ও জনতার দলের আব্দুল করীম মুন্সী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ):
সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসাইন কাসেমী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জোটের কারণে বিএনপি আসনটি ছেড়ে দিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক এমপি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী এবং সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।
অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন—এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন, বাসদের সেলিম মাহমুদ, সিপিবির মো. ইকবাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফ ভূইয়া, খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন ও ইলিয়াস আহম্মেদ, জাসদের মো. সুলাইমান দেওয়ান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. সেলিম আহমেদ, জাতীয় পার্টির মো. ছালাউদ্দিন খোকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাতেমা মনির।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর):
এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনবারের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম একদিন আগেই মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও বিএনপি নেতা আবু জাফর আহমেদ বাবুল। এছাড়াও গণসংহতি আন্দোলনের তরিকুল ইসলাম সুজন, সিপিবির মন্টু ঘোষ, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব ও মো. ইকবাল হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাসুম বিল্লাহ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকায় দিনভর প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। এখন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন জেলাবাসী।