শনিবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়াস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি রীনা আহমেদ।
বক্তব্য প্রদান করেন- জেলার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আন্দোলন সম্পাদক সাহানারা বেগম, পরিচালনা করা সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুন।
সভায় বক্তারা বলেন- অদ্ভুত এক ঘোড়ার পিঠে চলছে স্বদেশ। দূর্বৃত্তরা যা খুশী, তাই করছে। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যেন কোন কিছু করার নেই। নরপশুরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে কন্যা শিশু ও নারী। এছাড়াও উগ্র মৌলবাদীদের ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির সুযোগে নরপশুরা সারাদেশে কন্যা শিশুদের টার্গেট করে নোংরা খেলায় মেতেছে।
বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ডে ৭ বছরের কন্যা শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়াকে বিভাগের কর্মচারী কুপিয়ে হত্যা করে, নরসিংদী ও ভোলায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, পাবনায় দাদীকে হত্যা করে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যাসহ নানা রকম সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক অবক্ষয় ও আইনের শাসন নেই বলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পুরুষ শ্রেণীর মধ্যে এত এত বিকৃত রুচির কাপুরুষেরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরুষ সমাজের উচিত এই কুলাঙ্গারদের প্রতিরোধ করা। তা না হলে পুরুষদের এই দল ভুক্তই মনে হবে। বিচারহীনতার এই অপসংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তেই থাকবে। ঘরে-বাইরে নারী ও কন্যা শিশুরা হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে দাবী জানানো হয়,
দ্রুততম সময়ে নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যেখানেই নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা সেখানেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি দেশে দ্রুত আইনের শাসন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নারী ও পুরুষ নয়, মানুষ হিসেবে একে অপরকে সম্মান করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে দেশ চরম অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।
মানববন্ধনে জেলা ও পাড়া কমিটির অর্ধ শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।