নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খাঁন বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জের মানুষের উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা সবাই এখন ঐক্যবদ্ধ। অতীতে যে দ্বন্দ্ব ছিল, এখন তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আমাদের লক্ষ্য হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বলভাবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা।“
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘লাঙ্গলবন্দ মহাঅষ্টমী পূর্ণস্নান’ উৎসবের প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় স্নান উৎসবকে নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খাঁন একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন, “মুসলিমদের জন্য যেমন মডেল মসজিদ রয়েছে, তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার পালনের জন্য নারায়ণগঞ্জে অন্তত একটি ‘মডেল মন্দির’ নির্মাণ করা হবে।” এই মন্দির নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নির্বাচনে সহযোগিতা করতে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়া ঐতিহ্যবাহী ‘জিউস পুকুর’ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, “জিউস পুকুরটি সংস্কার করে পার্কের আদলে গড়ে তোলা হবে। আধুনিক ঘাট নির্মাণ ও আশপাশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এটি হবে দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।”
লাঙ্গলবন্দের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে থাকা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে সিটি প্রশাসক বলেন, “আগে লাঙ্গলবন্দের উন্নয়নের জন্য ১২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। আমরা চাই এখানে প্রয়োজনীয় সেবা কেন্দ্র ও পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত হোক। এ লক্ষ্যে স্থানীয় এমপি এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে, যাতে উৎসবটি আরও বৃহৎ পরিসরে ও সুন্দরভাবে আয়োজন করা যায়।”
সাখাওয়াত হোসেন খাঁন আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান আমরা সবাই মিলেমিশে বসবাস করি। এর দৃষ্টান্ত আমরা আগেও রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও রাখব। সরকারি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসবের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
সভায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সিটি প্রশাসকের এই উন্নয়নমুখী ও সম্প্রীতিমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানান।