নির্বাচনী মাঠে জাকির খান? প্রার্থীতার গুঞ্জনে সরগরম রাজনীতি
দীর্ঘ ২১ বছরের পলাতক জীবন ও আড়াই বছরের কারাবাসের পর মুক্তি পেয়েই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির প্রভাবশালী নেতা জাকির খান। গত ১৩ এপ্রিল তারিখে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। একইসাথে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে শুরু হয়েছে জোরালো গুঞ্জন।
একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর আত্মগোপনে ছিলেন জাকির খান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে দেশ ও বিদেশে অবস্থানের পর অবশেষে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ঢাকায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে আড়াই বছর কারাভোগের পর বেকসুর খালাস পেয়ে সম্প্রতি তিনি মুক্তি পান।
মুক্তির পর জাকির খান সরাসরি বড় কোনো রাজনৈতিক শোডাউন না করে সতর্কভাবে এগোচ্ছেন। তিনি নীরবে তার অনুগত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করছেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে সচেষ্ট হয়েছেন। তার এই বিচক্ষণ প্রত্যাবর্তন নারায়ণগঞ্জের বিএনপিতে একটি নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের একটি বড় অংশের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, জাকির খানের সক্রিয় উপস্থিতি রাজপথের রাজনীতিতে বিএনপিকে নতুন শক্তি জোগাবে।
নব্বইয়ের দশকে ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে জাকির খানের উত্থান। তুখোড় সংগঠক হিসেবে অল্প সময়েই তিনি নারায়ণগঞ্জে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পান। তার নেতৃত্বে সে সময় ছাত্রদল নারায়ণগঞ্জে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক সংঘাত ও মামলার কারণে তাকে দীর্ঘ সময় রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে থাকতে হয়। এত দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পরেও তার একনিষ্ঠ কর্মী-বাহিনী ও সমর্থক গোষ্ঠী অটুট রয়েছে, যা তার কারামুক্তির পরেই স্পষ্ট হয়েছে।
জাকির খানের মুক্তির পর তার কর্মী-সমর্থকদের মূল লক্ষ্য এখন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাদের প্রত্যাশা, জাকির খান নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) অথবা নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক আড্ডায় এই বিষয়টি এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়।
কর্মী-সমর্থকদের মতে, জাকির খানের মতো একজন লড়াকু ও ক্যারিশম্যাটিক নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে লড়তে পারবে এবং জয়ের সম্ভাবনাও বাড়বে। যদিও বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা, তা এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জাকির খান যে মনোনয়নের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হবেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
সব মিলিয়ে, জাকির খানের মুক্তি এবং রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষা করছে পুরো রাজনৈতিক মহল।