নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভুট্টা ব্যবসার নামে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এক কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে মোঃ মোস্তফা আসাদ (২৫) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানাধীন আন্দুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘আসাদ এগ্রো টেক লিমিটেড’-এর কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোস্তফা আসাদ ওই এলাকার মোঃ আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে।
পিবিআই সূত্র জানায়, পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)-এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) অপু দে’র নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, এজাহারনামীয় ১নং আসামি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস (৬৫) ও তার ছেলে ২নং আসামি মোস্তফা আসাদের সঙ্গে বাদীর পূর্ব থেকেই ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে পিতা-পুত্র বাদীকে ভুট্টা সংগ্রহ, গুদামজাতকরণ এবং পরবর্তীতে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে বিপুল মুনাফা অর্জনের লোভনীয় প্রস্তাব দেয়।
তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে বাদী আসামিদের একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন এবং ২০২৪ সালের ২৪ মে双方 ‘মৌসুমী ভূট্টা ক্রয় ও সংরক্ষণের গুদাম ভাড়ার চুক্তিপত্র’ সম্পাদন করেন। চুক্তি মোতাবেক বাদী অগ্রণী ব্যাংকে আসামিদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেড’-এর হিসাবে বিভিন্ন দফায় সর্বমোট ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৩০ টাকা জমা দেন।
পরবর্তীতে হিসাব-নিকাশ শেষে মূলধন ও লভ্যাংশ মিলিয়ে বাদীর পাওনা দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা। কিন্তু পাওনা টাকা পরিশোধ না করে আসামিরা কালক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে তারা বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী ফতুল্লা থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৮)।
মামলাটি সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ স্ব-উদ্যোগে এর তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে এসআই অপু দে প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে চুয়াডাঙ্গা থেকে মোস্তফা আসাদকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসাদ স্বীকার করেছে যে, সে এবং তার বাবা আব্দুল লতিফ বিশ্বাস পরস্পর যোগসাজশে বাদীর সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে আসাদ এগ্রোটেক লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গৃহীত বিপুল অর্থ থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৪৫ টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, এজাহারনামীয় ১নং আসামি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস একজন চিহ্নিত অর্থ প্রতারক এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় তার বিরুদ্ধে একই ধরনের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, অপরাধের মূল রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন এবং পলাতক প্রধান আসামি আব্দুল লতিফ বিশ্বাসকে আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







