নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘কদম রসূল সেতু’ নির্মাণকাজের গতি বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের ল্যান্ডিং পয়েন্টে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নগর ভবনে গিয়ে প্রশাসকের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ১ হাজার ৩৮৫ মিটার দীর্ঘ এই দৃষ্টিনন্দন ক্যাবল-স্টেড সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৭৩৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সেতুর মোট ২৩৭টি পাইলের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৪৬টির কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও পশ্চিম পাড়ে লুপ ও ল্যান্ডিং পয়েন্টের জন্য নির্ধারিত রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে পুরো নির্মাণকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে নাগরিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম এবং আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, কদম রসূল সেতু নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের অবৈধ দখলের কারণে এই মেগা প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়তে পারে না। তারা অবিলম্বে রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করে সেতু কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করা আমাদের অগ্রাধিকার। উন্নয়নের পথে কোনো বাধা বরদাশত করা হবে না। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই চিহ্নিত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ সময় নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দ্রুতই সেতুর কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হবে।