নারায়ণগঞ্জের খানপুরে ভূমি অফিসগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর করার নজিরবিহীন অনিয়ম দেখে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল আটটার কয়েক মিনিট আগে আকস্মিকভাবে নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী সকাল আটটার আগে কার্যালয়ে প্রবেশ করলেও নয়টা বাজার পরও অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। অধিকতর বিস্ময়ের বিষয় হলো, অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও হাজিরা খাতায় অনেকেরই এদিনের (৩১ আগস্ট) স্বাক্ষর আগে থেকেই করা ছিল। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী এই জালিয়াতির ঘটনাটি হাতেনাতে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর আসার খবর পেয়ে প্রায় ২০ মিনিট পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া এবং তারও কিছুক্ষণ পর ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা সেখানে উপস্থিত হন। সরাসরি সম্প্রচারে থাকা বিভিন্ন গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই প্রতিমন্ত্রী ওই দুই কর্মকর্তার কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন বিশৃঙ্খলার কারণ জানতে চান।
এ সময় তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন, গত এক সপ্তাহের সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত তার কাছে পাঠাতে হবে। সিসি ক্যামেরাগুলো সচল আছে কি না, সে খবর তিনি আগেই নিয়েছেন বলে কর্মকর্তাদের জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিনাত ফৌজিয়া অনুপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানান, একজন সহকারী কমিশনার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং অন্যজন একটি সরকারি অনুষ্ঠানে আছেন। তবে ঢালাওভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো যৌক্তিক কারণে ১০ মিনিট দেরি হতে পারে, কিন্তু তিনটি সার্কেল অফিসের কেউ থাকবে না—এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আগে অফিসে যান। অথচ এখানে এসে দেখলাম ৩১ তারিখের সবার স্বাক্ষর আগেই দেওয়া আছে। এটি স্পষ্ট জালিয়াতি এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিস নিয়ে জনগণের অভিযোগের মাত্রা অনেক বেশি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার হোয়াটসঅ্যাপে এই অফিসের সেবা নিয়ে প্রচুর অভিযোগ আসে। এখানে এসে সেবা প্রদানের মানসিকতার অভাব দেখলাম। সময়মতো কাজ করা রাষ্ট্রের প্রতি দয়া নয়, এটি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর যে আদর্শ ও জনসেবার লক্ষ্য, তার সাথে এখানকার চিত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী নারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, নারী কর্মকর্তারা একই সঙ্গে বিচারিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা ও জালিয়াতির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।