নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন (১২) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. রিপনকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রিপন বন্দর উপজেলার লাউসার এলাকার মো. ইসলামের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি রিপন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, তথ্য-প্রমাণ না থাকায় এই মামলায় রাব্বি নামের এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘাতক রিপন প্রথমে ইট দিয়ে আরাফাতের মাথা থেঁতলে দেয় এবং পরে গলা টিপে হত্যা করে লাশ মসজিদের পুকুরে ফেলে দেয়। চতুরতার আশ্রয় নিয়ে রিপন নিজেই নিখোঁজ আরাফাতের পরিবারের সঙ্গে তাকে খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর পুকুর থেকে আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, হত্যার নেপথ্যে ছিল পূর্ব শত্রুতা ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ। রিপনের একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আরাফাতের কলেজপড়ুয়া বড় ভাই সাক্ষী দিয়েছিলেন। এছাড়া আরাফাতের বাবা মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মনা, প্রতিবেশী এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে রিপনের পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করেছিলেন। এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই শিশু আরাফাতকে টার্গেট করে রিপন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন। আসামি রিপন ইতিপূর্বে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।