নরসিংদী, হাতিয়া, পাবনাসহ দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে রাজপথে নেমেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও মশাল মিছিল পালিত হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় জেলা কার্যালয় থেকে একটি প্রতিবাদী মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক (বিবি রোড) প্রদক্ষিণ শেষে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্ষণ বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি সমূলে উৎপাটন করতে অবিলম্বে কঠোর নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন জরুরি।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর উদাহরণ টেনে বক্তারা বলেন, নরসিংদীতে ১৫ বছরের কিশোরী, রাজধানীর হাতিরঝিলে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ এবং পাবনায় দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করে যে, সমাজে অপরাধীদের দাপট কতটা ভয়াবহ। রাষ্ট্র ও প্রশাসন যখন নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখনই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নেতৃবৃন্দ প্রতিটি এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল’ গঠনের জোর দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়:
১. ধর্ষণ অপরাধ বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
২. দেশব্যাপী ডিএনএ (DNA) ল্যাবের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. ধর্ষণকেন্দ্রিক গ্রাম পর্যায়ের পঞ্চায়েতি বা সালিশি বিচার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
৪. অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার কার্যকর করতে হবে।
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ‘যৌন নিপীড়ন’ সম্পর্কে সচেতনতামূলক পাঠদান করাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন এবং চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা পেরিয়ে আমরা অবশেষে একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছি। আমরা বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই সতর্ক করতে চাই। সরকারকে অবিলম্বে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, “এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে যদি কেউ হীন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেন, তবে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।”
জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেনের সঞ্চালনায় এবং জেলা সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলার সহ-সভাপতি সৃজয় সাহা, ইউশা ইসলাম, তাইরান আবাবিল রোজা, সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্ত শেখ, অর্থ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস নিসা, দপ্তর সম্পাদক শেখ সাদী, রাজনৈতিক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রত্যাশা এবং কার্যকরী সদস্য সিয়াম সরকার।
এছাড়াও কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার আহ্বায়ক রাইসা ইসলাম, সদস্য আবু তালহা, সুমাইয়া, জাহিদ, আশামণি; নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার আহ্বায়ক মৌমিতা নূর, যুগ্ম সদস্য সচিব তাহমিদ আনোয়ার, আহাদ, অভি এবং ভোলাইল আঞ্চলিক শাখার সদস্য আকিব হাসান, রাকিব হাসান, হাসান সোয়দ, সোহাগসহ বিভিন্ন শাখার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।