তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬১ মাস উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করে।
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপার্থির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি সাংবাদিক হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাসুম, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, বাসদের জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক ডিপু, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, আবৃত্তি শিল্পী ভবানী শঙ্কর রায় ও নারায়ণগঞ্জ সংস্কৃতি জোটের সহসভাপতি মনি সুপার্থি।
রফিউর রাব্বি বলেন, সাড়ে তেরো বছরেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র না দেওয়া বিচার ব্যবস্থার দেউলিয়াত্বের উদাহরণ। শেখ হাসিনা জোর করে সাড়ে এগারো বছর এ বিচার বন্ধ করে রেখেছেন, কিন্তু তার বিদায়ের দুই বছর পরেও চিত্রটি খুব একটা বদলায়নি। তবে এ হত্যার এক বছরের মাথায় তদন্তসংস্থা র্যাব তদন্ত শেষ করার দাবি করলেও আজ পর্যন্ত সে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হলো না। এর মধ্যে দুটি সরকারের বদল হয়েছে অথচ তদন্ত শেষ হলো না, সরকার বদলালেও বিচার ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো বদল এখনো হয় না। চব্বিশের অভ্যুত্থানে ছাত্ররা “উই ওয়ান জাস্টিস” বলে রাস্তায় নেমেছিল, ন্যায় বিচার চেয়েছিল কিন্তু সে ন্যায়বিচার এখনো প্রতিষ্ঠা পায় নাই। তিনি বলেন, আমরা ত্বকী, সাগর-রুনি, তনুসহ সকল হত্যার বিচার চাই। চব্বিশের অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া সকল শহিদদের হত্যার বিচার চাই। একটা সভ্য সমাজে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদতে পারে না।
মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আমরা সাড়ে তেরো বছর ধরে ত্বকী হত্যার বিচার চাচ্ছি। শেখ হাসিনা ইচ্ছা করে বিচার বন্ধ রেখেছে, কিন্তু এখন বাধাটা কোথায়? কেন অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে না? কাকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে? তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে আপনি তো নির্যাতিত হয়েছেন আয়নাঘরে, ভারতে থেকেছেন আপনি এখন ত্বকী হত্যাটা করুন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর এবং ২০২৪ সালে কাজল হাওলাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পরে হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরে তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজ পর্যন্ত আদালতে পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও…