নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউছুফ খান টিপু বলেছেন, “খুনি শামীম ওসমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সে বলেছিল রাজপথে ‘খেলা হবে’, কিন্তু খেলার মাঠ প্রস্তুত হওয়ার আগেই সে বোরকা পরে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিলেও আমরা তাদের কোথাও খুঁজে পাইনি। যারা বোরকা পরে পালায়, তাদের সাথে খেলার যোগ্যতা আমাদের নেই।”
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য প্রতিহত করতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল ‘প্রতিরোধ মিছিল’ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট টিপু আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এখন নির্বাচিত সরকারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চায়। তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশ ও সরকারকে অকার্যকর করার চক্রান্ত করছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই—নারায়ণগঞ্জের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবে না। আপনারা এলাকায় এলাকায় সজাগ থাকবেন। আওয়ামী লীগের গুণ্ডাবাহিনী যেখানেই অরাজকতা করবে, তাদের ধরে সরাসরি পুলিশের হাতে সোপর্দ করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই। তাঁর নেতৃত্বে দেশের ২০ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আমরা রাজপথে আছি। আমরা তারেক জিয়ার নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জকে সব ধরণের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক এবং ভূমিদস্যুমুক্ত এক নিরাপদ শহর হিসেবে উপহার দিতে চাই। এর মাঝে কোনো অপশক্তির বিশৃঙ্খলা আমরা বরদাশত করব না।”
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সদাসতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে টিপু বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরণের নৈরাজ্য মোকাবিলায় সব সময় প্রস্তুত আছি। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখুন।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে মহানগর বিএনপির এই বিশাল প্রতিরোধ মিছিলটি নগরীর মিশনপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে উত্তর চাষাড়া, কলেজ রোড, গলাচিপা ও বেপারীপাড়া হয়ে বাবুরাইল বউবাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে মহানগর বিএনপি, শ্রমিক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগানে স্লোগানে পুরো শহর প্রকম্পিত করেন।